সাজাহান দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
জাহানারা। তাদের এই
হঠাৎ বিদ্রোহের কারণ কিছু অনুমান করেছো দারা ?
দারা। তা’রা বলে যে, পিতা রুগ্ন এ কথা
মিথ্যা; পিতা মৃত, আর আমি নিজের আজ্ঞাই তার নামে চালাচ্ছি।
জাহানারা। তাতে অপরাধ কি
হয়েছে? তুমি সম্রাটের জ্যেষ্ঠ পুত্র— ভাবী সম্রাট।
দারা। তারা আমাকে
সম্রাট বলে মানতে চায় না।
সিপারের সহিত নাদিরার প্রবেশ
সিপার। তারা তোমার হুকুম মানতে
চায় না বাবা?
জাহানারা। দেখ ত
আস্পর্ধা! (হাস্য)
দারা। কি নাদিরা,
তুমি অধোমুখে যে? তুমি যেন কিছু বলবে!
নাদিরা। শুনবে
প্রভু? আমার একটা অনুরোধ রাখবে!
দারা। তোমার কোন্ অনুরোধ কবে না রেখেছি
নাদিরা।
নাদিরা। তা জানি। তাই
বলতে সাহস কছি। আমি বলি—তুমি এ যুদ্ধ থেকে বিরত হও।
জাহানারা। সে কি
নাদিরা।
নাদিরা। দিদি—
দারা। কি! বলতে বলতে চুপ কর্লে যে! কেন তুমি এ অনুরোধ কর্ছ নাদিরা!
নাদিরা। কাল রাত্রে
আমি একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি।
দারা। কি দুঃস্বপ্ন?
নাদিরা। আমি এখন তা
বলতে পাব না। সে বড় ভয়ানক! নাথ! এ যুদ্ধে কাজ নেই–
দারা। সে কি নাদিরা!
জাহানারা। নাদিরা,
তুমি পরভেজের কন্যা না? একটা যুদ্ধের ভয়ে এই অশ্রু, এই শঙ্কাকুল দৃষ্টি, এই ভয়বিহ্বল উক্তি তোমার শোভা পায় না।
নাদিরা। দিদি, যদি
জান্তে যে সে কি দুঃস্বপ্ন! সে বড় ভয়ানক, বড় ভয়ানক ।
জাহানারা। দারা, এ
কি! তুমি ভাবছো! এত তরল তুমি! এত স্ত্রৈণ! পিতার সম্মতি পেয়ে এখন স্ত্রীর সম্মতি
নিতে হবে না কি! মনে রেখো দায়, কঠোর কর্তব্য সম্মুখে! আর ভাববার সময় নাই।
দারা। সত্য নাদিরা।
এ যুদ্ধ অনিবার্য, আমি যাই। যথাযথ আজ্ঞা দেই গে যাই।
প্রস্থান
নাদিরা। এত নিষ্ঠুর
তুমি দিদি—এস সিপার—
সিপারের সহিত নাদিরার প্রস্থান
জাহানারা। এত
ভয়াকুল। কি কারণ বুঝি না।
সাজাহানের পুনঃপ্রবেশ
সাজাহান। দারা
গিয়েছে জাহানারা?
জাহানারা। হাঁ বাবা!
সাজাহান। (ক্ষণিক নিস্তব্ধ
থাকিয়া) জাহানারা –
জাহানারা। কী বাবা!
সাজাহান। তুইও এর মধ্যে?
জাহানারা। কিসের মধ্যে?
সাজাহান। এই ভ্রাতৃদ্বন্দ্বের?
জাহানারা। না বাবা –
সাজাহান। শোন জাহানারা।
এ বড় নির্মম কাজ! কি কর্ব – আজ তার প্রয়োজন হয়েছে! উপায় নাই। কিন্তু তুইও এর মধ্যে
যাস নে। তো’র কাজ – স্নেহ – ভক্তি – অনুকম্পা। এ আবর্জনায় তুইও নামিস নে। তুইও অন্তত
পবিত্র থাক।
(১ম দৃশ্য সমাপ্ত। ক্রমশ ...)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন