শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলা নেট সেট পরীক্ষা প্রস্তুতি : General Paper 1 - Data Interpretation

বাংলা নেট সেট পরীক্ষা প্রস্তুতি

General Paper 1 : তথ্য বিশ্লেষণ / ডাটা ইন্টারপ্রিটেশন (Data Interpretation)

গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মডেল সেট প্রশ্নোত্তর

প্র্যাকটিসের অভিনব প্ল্যাটফর্ম এবার সবার কাছে... বাংলা নেট দুনিয়ায় এই প্রথম...
📖 এই মূল্যায়নে যা পাবেন:

বিশেষ পর্ব : (Data Interpretation ১০টি প্রশ্নাবলি / MCQs)
উত্তর সহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
বাংলা NET SET পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য বিশেষ উপযোগী

🔔মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করে নিজের পাঠ প্রস্তুতি যাচাই করুন।
⚡আমাদের ব্লগ ফলো করে সঙ্গে থাকুন।
✅তারপর এই মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করুন।

✅ এই মূল্যায়ন আসলে নিজেকে যাচাই করার পরীক্ষা।
✅আপনার পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতা, নিষ্ঠা, উচ্চাশা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

✅ আপনার Perception, Attention, Executive Functions, Memory সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবেন।

➤ প্রতিযোগিতামূলক বা চাকুরির পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে এই ধরণের পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
🔔 আরও আলোচনার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
Candidate Name :
Subject Name : General Paper 1 - Data Interpretation (DI)
Remaining Time : 00:30:00
Question 1:
Loading question...
0 Not Visited
0 Not Answered
0 Answered
0 Marked for Review
0 Answered & Mark for Review
Choose a Question:

Test Result & Answer Sheet

Detailed Answers:

⚠️ সতর্কতা: এটি শিক্ষার্থীদের নেট/সেট (NET/SET) পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে তৈরি একটি আনঅফিশিয়াল প্র্যাকটিস পোর্টাল। এর সাথে NTA, UGC বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি-তে উপলব্ধ। এখানে দেওয়া সমস্ত প্রশ্ন ও তথ্য শুধুমাত্র অনুশীলনের উদ্দেশ্যে এবং 'স্বার্থহীন শিক্ষামূলক ব্যবহারে' (Fair Use) উপস্থাপিত। এই পোর্টালে ব্যবহৃত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও অনুশীলনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। এর কোনো অংশ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি বা পুনঃপ্রকাশের উদ্দেশ্যে তৈরি নয়। সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো ভুলত্রুটি থেকে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে কমেন্ট করে আমাদের নজরে আনার অনুরোধ জানাই।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Bengali NET Preparation Mock Test

Candidate Name : [Your Name]
Subject Name : Bengali - Paper 2
Remaining Time : 02:00:00
Question 1:
Loading question...
0 Not Visited
0 Not Answered
0 Answered
0 Marked for Review
0 Answered & Marked for Review
Choose a Question:

Test Result & Answer Sheet

Detailed Answers:

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মুক্তধারা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ক্যুইজ সংকলনে ড. পরিতোষ মাহাত)

মুক্তধারা নাটক (ক্যুইজ) - NTA NET / SET পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য

মুক্তধারা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ক্যুইজ- ১ম পর্ব)

NTA UGC NET / WB SET পরীক্ষার উপযোগী ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও ব্যাখ্যাসহ (এই নাটকটি কতখানি খুঁটিয়ে পড়েছ, তা যাচাই করে নিতে এই ক্যুইজে অংশগ্রহণ করো। বাংলা সাহিত্য চর্চা চ্যানেলে আরও এই ধরণের পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য প্রশ্নোত্তর তৈরি করা হবে। আরও আলোচনার জন্য আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো)

শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

মহুয়া পালা : ২ (গারো পাহাড়; বনপ্রদেশ)

 

২ গারো পাহাড়; বনপ্রদেশ

 


(হুমরা ও মাইন্‌কিয়া সহ দলবলের প্রবেশ)

হুমরা বাইদ্যা ডাক দিয়া কয় মাইন্‌কিয়া ওরে ভাই।

খেলা দেখাইবারে চল বৈদেশেতে যাই।।

মাইন্‌কিয়া বাইদ্যা কয় ভাই শুন দিয়া মন।

বৈদেশেতে যাব আমরা শুক্কুর বাইর‍্যা * দিন।।

শুক্কুর বাইর‍্যা দিন আইল সকালে উঠিয়া

দলের লোক চলে যত গাট্টীবুচকা* লইয়া।।

আগে চলে হুমরা বাইদ্যা পাছে মাইন্‌কিয়া ভাই।

তার পাছে চলে লোক লেখা জুখা নাই।।

বাশ তাম্বু লইল সবে দড়ি আর কাছি।

* * * *

তোতা লইল ময়না লইল আরো লইল টিয়া।

সোনামুখী দইয়ল* লইল পিঞ্জিরায় ভরিয়া।।

ঘোড়া লইল গাধা লইল কত কইব আর।

সঙ্গেতে করিয়া লইল রাও* চণ্ডালের হাড়।।

শিকারী কুকুর লইল শিয়াল হেজা* ধরে।

মনের সুখেতে চলে বৈদেশ নগরে।।

তারও সঙ্গেতে চলে মহুয়া সুন্দরী।

তার সঙ্গে পালঙ্ক সই গলা ধরাধরি।।

এক দুই তিন করি মাস গুয়াইল*।

বামনকান্দা গ্রামে যাইয়া উপস্থিত হইল।।

এই অংশটি ভালো করে পড়ে নাও। 

কতটা খুঁটিয়ে পড়েছ, সেটা জানতে নিচের মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করো। 

নিজের নাম, কলেজের নাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লিখে 

Next অংশে ক্লিক করলেই প্রশ্নপত্র দেখতে পাবে।

সঠিক উত্তর চিহ্নিত করে Submit করে দাও। 

মুল্যায়নের জন্যে লিঙ্ক: 




 

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

চরিতকথা - রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী রচিত প্রবন্ধ 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'

 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী রচিত ‘চরিতকথা’ থেকে

চরিতকথা - রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী 


(১৩১২ সালের ২৬শে চৈত্র ক্ল্যাসিক থিয়েটারে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে আহূত স্মৃতি-সভায় বঙ্কিমচন্দ্র সম্বন্ধে নিবন্ধটি লেখক কর্তৃক পঠিত হয়।)

 

বারো বৎসর অতীত হইল, বঙ্কিমচন্দ্র তাঁহার শ্যামাঙ্গনী জননীর অঙ্কদেশ শূন্য করিয়া চলিয়া গিয়াছেন; কিন্তু এত দিন আমরা তাঁহার স্মৃতির সম্মানার্থ কোনরূপ আয়োজন আবশ্যক বোধ করি নাই। বঙ্কিমচন্দ্রের প্রাতি আমাদের কর্তব্য-বুদ্ধি যে এত দিন জাগে নাই, তাহা আমাদের অবস্থার পক্ষে স্বাভবিক। বারো বৎসর পরে যদি সেই কর্তব্যবুদ্ধি জাগিয়৷ থাকে, সেই প্রবুদ্ধিসাধনে আমাদের কৃতিত্ব বিচার্য বিষয়। বঙ্কিমচন্দ্র স্বয়ং কোন্‌ তপোলোকে বা সত্যলোকে অবস্থিত হইয়াও মর্ত্যলোকে তাঁহার দুঃখিনী জননীকে আজও ভুলতে পারেন নাই;— সেইখানেই বসিয়া “তুমি বিদ্যা, তুমি ধর্ম, তুমি হৃদি, তুম মর্ম, তং হি প্রাণাঃ শরীরে”[১] বলিয়া কাতরকণ্ঠে গান গাহিতেছেন;— আর মানবের অশ্রুতিগোচর সেই সঙ্গীত সপ্তকোটি কণ্ঠে কলকল নিনাদ উত্থাপিত করিয়া বঙ্গভূমিকে জাগ্রত করিয়াছে। আমাদের কর্তব্যবুদ্ধি আজ যদি জাগিয়া থাকে, স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্রই আমাদিগকে জাগাইয়াছেন, আমাদের উহাতে কোন কৃতিত্ব নাই।

 

বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতির উপাসনার জন্য আজিকার সভা আহূত হইয়াছে; এবং যাঁহারা এই উপাসনার আয়োজন করিয়াছেন এবং এই উপাসনাকর্মকে সন্তবতঃ সাংবৎসরিক অনুষ্ঠানে পরিণত করিতে ইচ্ছা করেন, তাহারা, কি কারণে জানি না, আজিকার অনুষ্ঠানের প্রধান ভার আমার উপর অর্পণ করিয়াছেন আমার প্রতি তাহাঁদিগের এই অহৈতুকী শ্রদ্ধার পরিচয় পাইয়া ও বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতি আমার ভক্তিপ্রকাশের অবসর লাভ করিয়া আমি যুগপৎ গর্ব ও আনন্দ অনুভব করিতেছি, কিন্তু যোগ্যতর পাত্রে এই ভার অর্পিত হইলে উপস্থিত ভদ্রমণ্ডলীকে বঞ্চিত হইতে হইত না। কেবল যে সময়োচিত বিনয়প্রকাশের জন্য আমি এ কথা বলিতোছি, তাহা নহে; বঙ্কিমচন্দ্র যে বিস্তীর্ণ বঙ্গীয়-সাহিত্যের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব গ্রহণ করিয়া তাঁহার সহবর্তী ও পরবর্তী অনুচরগণের পথপ্রদর্শক হইয়া গিয়াছেন, আমিও সেই বঙগীয়-সাহিত্য-ক্ষেত্রের এক প্রান্তে এক সঙ্কীর্ণ পথ আশ্রয় করিয়া মন্দগতিতে ধীরে ধীরে পদক্ষেপে সাহসী হইয়াছি ; ইহাই আমার জীবনের কাজ ও ইহাই আমার জীবিকা। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র তাঁহার প্রতিভার অত্যুজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হস্তে করিয়া সাহিত্যক্ষেত্রের যে যে অংশ প্রদীপ্ত করিয়াছিলেন, সেই সেই অংশে আমার “প্রবেশ নিষেধ”। আমি দূর হইতে সেই আলোর উজ্জ্বল দীপ্তিতে মুগ্ধ হইয়াছি মাত্র, কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের ভাগ্যবান সহচরগণের ও অনুচরগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করিতেও আমি অধিকারী নহি। আজিকার আয়োজনের অনুষ্ঠাতাদিগের অনুগ্রহজন্য অকপট কৃতজ্ঞতাস্বীকারে আম বাধ্য আছি; কিন্তু আমি আশা করি যে, আপনারা তাহাদের পাত্রনির্বাচনে বিষয়বুদ্ধির প্রশংসা করিবেন না।

 

বাঙ্গালীর জীবনের উপর বঙ্কিমচন্দ্র কত দিকে কত উপায়ে প্রভূত্ব বিস্তার করিয়াছেন, তাহা আমরা জানি; কিন্তু বাঙ্গালার বাহিরে সম্ভবতঃ তিনি বাঙ্গালার সার্‌ ওয়াল্টার স্কট মাত্র।[২] ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্রের সহিত পরিচয় অতি অল্প বয়সেই ঘটিয়াছিল, সে বয়সে উপন্যাসগ্রন্থের সহিত আমার পারিচয় বড়-একটা স্পৃহণীয় বলিয়া বিবেচিত হয় নাই। আমার যখন আট বংসর বয়স, তখন বঙ্গদর্শনে ‘বিষবৃক্ষ' বাহির হইতোছিল এবং আমি বঙ্গদর্শনের কয়েক সংখ্যা হইতে বিষবৃক্ষের দুই-চারিটি পরিচ্ছেদ আত্মসাৎ কায়াছিলাম। সেই বয়সে বিষবৃক্ষের সাহিত্য-রসের কিরূপ আস্বাদ অনুভব করিয়াছলাম, তাহা ঠিক মনে নাই; তবে এ কথা বেশ মনে আছে যে, পাঠশালায় গিয়৷ তারিণীচরণ চট্টোপাধ্যায়-প্রণীত ভূগোল বিবরণের ভারতবর্ষের অধ্যায়ে গঞ্জাম গঞ্জাম, চত্বরপুর চত্বরপুর, মসলিপটম মসলিপটম, আর্কট আর্কট, মাদুরা মাদুরা, টিনিভেলি টিনিভেলি প্রভৃতি অপরূপ সুশ্রাব্য নামাবলী আবৃত্তির ত্রুটি ঘটিলে পণ্ডিত মহাশয়ের নিকট বেত্রাঘাত উপহার পাইয়া বাঙ্গালা সাহিত্যের প্রতি যে অনুরাগ দাঁড়াইয়াছিল, নগেন্দ্রনাথের নৌকাযাত্রা ও কুন্দনন্দিনীর স্বপ্নদর্শন নিতান্তই তাহার সমর্থন ও পোষণ করে নাই। আমার বেশ মনে আছে যে, ‘পদ্মপলাশলোচনে তুমি কে’[৩] এই পরিচ্ছেদের সহিতই আমার তাৎকালিক বিষবৃক্ষ-পাঠ সমাপ্ত হয় এবং ঐ পরিচ্ছেদের শীর্ষস্থিত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নটি মনের মধ্যে বিস্ময় ও কৌতূহলের উদ্রেক করিয়া কিছু দিনের জন্য একটা অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি করে। কিছু দিনের জন্য মাত্র, কেন না, পর-বৎসর আমি পাঠশালার পরীক্ষায় যে পুরস্কার পাইয়াছিলাম, বাড়ী ফিরিয়া দেখিলাম, তাহার রাঙা ফিতার বন্ধনের মধ্যে শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-প্রণীত দুর্গেশনন্দিনী ও বিষবৃক্ষ নামক দুইখানি পুস্তক রহিয়াছে। সভাস্থলে যাঁহারা পিতার বা পিতৃস্থানীয় অভিভাবকের গৌরবযুক্ত পদবী গ্রহণ করেন, তাঁহারা শুনিয়া আতঙ্কিত হইবেন যে, এ পুরস্কার বিতরণে গ্রন্থ নির্বাচনের ভার আমার পিতৃদেবের উপর অর্পিত ছিল এবং তিনিই আমার গঞ্জাম গঞ্জাম, চত্বরপুর প্রভৃতি সূক্ষ্ম ভৌগোলিক তত্ত্বে পারদর্শিতার পুরস্কারস্বরূপ ঐ দুইখানি গ্রন্থ নির্বাচন করিয়া তাঁহার নবম বর্ষের পুত্রের হস্তে অর্পণ করিয়াছিলেন।

 

পুরস্কারহস্তে বাড়ী আসিয়া রাত্রিটা একরকমে কাটাইয়াছিলাম, পরদিনে বিষবৃক্ষ ও তার পরদিনে দুর্গেশনন্দিনী টাইটেলপেজের হেডিং মায় মূল্য পাঁচ সিকা হইতে শেষ পর্যন্ত একরকমে উদরস্থ করি। এ দুটি গ্রন্থের কোন্‌ অংশ সর্বোৎকৃষ্ট বোধ হইয়াছিল, তাহা যদি এখন অকপটে বলিয়া ফেলি, তাহা হইলে নিশ্চয়ই আপনারা আমার কাব্যরসগ্রাহিতার প্রশংসা করিবেন না। বিষবৃক্ষের মধ্যে যেখানে ছেলের পাল “হীরার আয়ি বুড়ী হাঁটে গুঁড়িগুঁড়ি” বলিয়া সেই বৃদ্ধার পশ্চাদ্ধাবন করিয়াছিল ও বৃদ্ধার ইষ্টিরস নামক ব্যাধির প্রতিকার বিষয়ে কেষ্টরস নামক ওষুধের উপযোগিতা সম্বন্ধে প্রতিবেশীর সহিত আলাপ করিতেছিল, সেই স্থানটাই গ্রন্থের মধ্যে সবোৎকৃষ্ট বলিয়া সাব্যস্ত করিয়াছিলাম ।


সম্পূর্ণ প্রবন্ধটির ১ম পর্ব পাঠ করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন। 

এই প্রবন্ধের প্রশ্নোত্তর বা নোটসের পাসওয়ার্ড দেওয়া পিডিএফ ডাউনলোড করতে হলে এই লিঙ্কে ক্লিক করে আলোচনার ভিডিও দেখুন ও পাসওয়ার্ড জেনে নিতে হবে। 

সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২

হাওয়ার রাত - জীবনানন্দ দাশ

 

হাওয়ার রাত
জীবনানন্দ দাশ

 

গভীর হাওয়ার রাত ছিল কাল- অসংখ্য নক্ষত্রের রাত;

সারারাত বিস্তীর্ণ হাওয়া আমার মশারিতে খেলেছে;

মশারিটা ফুলে উঠেছে কখনো মৌসুমী সমুদ্রের পেটের মতো,

কখনো বিছানা ছিড়ে

নক্ষত্রের দিকে উড়ে যেতে চেয়েছে;

এক- একবার মনে হচ্ছিল আমার- আধো-ঘুমের ভিতর হয়তো-

মাথার উপরে মশারি নেই আমার

স্বাতী তারার কোল ঘেঁষে নীল হাওয়ার সমুদ্রে শাদা বকের মতো উড়ছে

সে!

কাল এমন চমৎকার রাত ছিল।

 

সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা কাল জেগে উঠেছিল- আকাশে এক তিল ফাঁক ছিল না;

পৃথিবীর সমস্ত ধূসর প্রিয় মৃতদের মুখও সেই নক্ষত্রের ভিতর দেখেছি আমি;

অন্ধকার রাতে অশ্বত্থের চুড়ায় প্রেমিক চিলপুরুষের শিশির-ভেজা চোখের

মতো

ঝলমল করছিল সমস্ত নক্ষত্রেরা;

জোছনারাতে বেবিলনের রানীর ঘাড়ের ওপর চিতার উজ্জ্বল চামড়ার

শালের মতো জ্বলজ্বল করছিল বিশাল

আকাশ!

কাল এমন আশ্চর্য রাত ছিল।

 

যে নক্ষত্রেরা আকাশের বুকে হাজার হাজার বছর আগে মরে গিয়েছে

তারাও কাল জানালার ভিতর দিয়ে অসংখ্য মৃত আকাশ সঙ্গে করে এনেছে

যে রূপসীদের আমি এশিরিয়ায়, মিশরে, বিদিশায় মরে যেতে দেখেছি

কাল তারা অতিদূর আকাশের সীমানার কুয়াশায়-কুয়াশায় দীর্ঘ বর্শা হাতে

করে

কাতারে- কাতের দাঁড়িয়ে গেছে যেন

মৃত্যুকে দলিত করবার জন্য?

জীবনের গভীর জয় প্রকাশ করবার জন্য?

প্রেমের ভয়াবহ গম্ভীর স্তম্ভ তুলবার জন্য?

 

আড়ষ্ট অভিভূত হয়ে গেছি আমি,

কাল রাতের প্রবল নীল অত্যাচার আমাকে ছিড়ে ফেলেছে যেন;

আকাশের বিরামহীন বিস্তীর্ণ ডানার ভিতর

পৃথিবী কীটের মতো মুছে গিয়েছে কাল!

আর উত্তু্ঙ্গ বাতাস এসেছে আকাশের বুক থেকে নেমে

আমার জানালার ভিতর দিয়ে, শাঁই শাঁই করে,

সিংহের হুঙ্কারে উৎক্ষিপ্ত হরিৎ প্রান্তরের অজস্র জেব্রার মতো!

 

হৃদয় ভরে গিয়েছে আমার বিস্তীর্ণ ফেল্টের সবুজ ঘাসের গন্ধে,

দিগন্ত- প্লাবিত বলীয়ান রৌদ্রের আঘ্রাণে

মিলনোন্মত্ত বাঘিনীর গর্জনের মতো অন্ধকারের চঞ্চল বিরাট সজীব রোমশ

উচ্ছ্বাসে,

জীবনের দুর্দান্ত নীল মত্ততায়!

 

আমার হৃদয় পৃথিবী ছিঁড়ে উড়ে গেল,

নীল হাওয়ার সমুদ্রে স্ফীত মাতাল বেলুনের মতো গেল উড়ে,

একটা দূর নক্ষত্রের মাস্তুলকে তারায়-তারায় উড়িয়ে নিয়ে চলল

একটা দুরন্ত শকুনের মতো।

 

কবিতা । চৈত্র ১৩৪২

কুড়ি বছর পরে - জীবনানন্দ দাশ

 

কুড়ি বছর পরে
জীবনানন্দ দাশ

 

আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি।

আবার বছর কুড়ি পরে -

হয়তো ধানের ছড়ার পাশে

কার্তিকের মাসে-

তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে- তখন হলুদ নদী

নরম-নরম হয় শর কাশ হোগলায়- মাঠের ভিতরে।

 

অথবা নাইকো ধান ক্ষেতে আর;

ব্যস্ততা নাইকো আর,

হাঁসের নীড়ের থেকে খড়

পাখির নীড়ের থেকে খড়

ছড়াতেছে; মনিয়ার ঘরে রাত, শীত আর শিশিরের জল।

 

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার –

তখন হঠাৎ যদি মেঠো পথে পাই আমি তোমারে আবার।

 

হয়তো এসেছে চাঁদ মাঝরাতে একরাশ পাতার পিছনে

সরু- সরু কালো কালো ডালপালা মুখে নিয়ে তার,

শিরীষের অথবা জামের,

ঝাউয়ের– আমের;

কুড়ি বছরের পরে তখন তোমারে নাই মনে।

 

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার –

তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার!

 

তখন হয়তো মাঠে হামাগুড়ি দিয়ে পেঁচা নামে__

বাবলার গলির অন্ধকারে

অশথের জানালার ফাঁকে

কোথায় লুকায় আপনাকে।

চোখের পাতার মতো নেমে চুপি কোথায় চিলের ডানা থামে-

 

সোনালি সোনালি চিল- শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে তারে-

কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে।

 

কবিতা । পৌষ ১৩৪২

বাংলা নেট সেট পরীক্ষা প্রস্তুতি : General Paper 1 - Data Interpretation

বাংলা নেট সেট পরীক্ষা প্রস্তুতি General Paper 1 : তথ্য বিশ্লেষণ / ডাটা ইন্টারপ্রিটেশন (Data Interpretation) গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মডেল সেট প্র...

জনপ্রিয়তার হিসেবে