শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বাংলা অলংকার (১ম পর্ব)

 বাংলা অলংকার আলোচনা 
(১ম পর্ব) 

অলংকার কাকে বলে? 
অলংকার বলতে কী বোঝো? 

অলঙ্কার বলতে কী বোঝ?

    অলঙ্কার সাহিত্যের অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গের সাজ-সজ্জা। অলম্‌শব্দের এক অর্থ ভূষণযার দ্বারা ভূষণ করা হয় তাই হল অলঙ্কার। অলঙ্কার যে সাহিত্যের সাজ-সঙ্জা, তা নামকরণ হতেও বোঝা যায়। অন্যদিকে দণ্ডীর মতে-“কাব্যশোভাকরান্‌ ধর্মান্‌ অলঙ্কারান্‌ প্রচক্ষতে”- কাব্যের যে সমস্ত ধর্ম তার শোভা সম্পাদন করে, তা অলঙ্কার। এই সংজ্ঞা অনুসারে অলঙ্কার বলতে সাহিত্যের সাধারণ সৌন্দর্যকেই বোঝানো হয়েছে। কিন্তু ব্যাপক অর্থ যাই হো, অলঙ্কার বলতে আমরা সাহিত্যের উপমাদি বিশেষ ক্ষণগুলিকেই মনে করে থাকি। যেমন হার, চুড়ি ইত্যাদি নারীর দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তেমনি অনুপ্রাস-উপমা-রূপক ইত্যাদি সাহিত্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তাই এগুলিকে সাহিত্যের অলঙ্কার বলা হয়ে থাকে। আলঙ্কারিক ভামহও বলেছেন,- রূপকাদিঃ অলঙ্কার স্তস্যান্যৈর্বহু ধোদিতঃ’

    এককথায়, অনুপ্রাস-উপমাদি যে মস্ত লক্ষণ সাহিত্যের সৌন্দর্য সম্পাদন ও রসের উৎকর্ষ সাধন করে, তাকে অলঙ্কার বলে

     নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য থাকলেও সে গহনা পরিধান করে। তার প্রধান উদ্দেশ্য, আপন সৌন্দর্য বর্ধিত করা। আর যার স্বাভাবিক সৌন্দর্য নে, তার গহনার দ্বারা আপনাকে বিভূষিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে দেখা যায়। ভামহের মতে, নারীর মুখশ্রী মনোহর হলেও বিনা অলঙ্কারে তা দীপ্তি পায় না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, নারী কুশ্রীই হোক আর সুশ্রীই হো, গহনা তার পক্ষে একটি অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তেমনি অলঙ্কার সাহিত্যের পক্ষে একটি অত্যাবশ্যক উপকরণ। নিরলঙ্কার বাক্যও সুন্দর হতে পারে, কিন্তু যেখানে যথোপযুক্তভাবে অলঙ্কার থাকে, সেখানে তা রচনা-সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেই। যখন মনের কথাকে শ্রোতার কাছে মনোহর করে তুলতে হয়, তখন অলঙ্কারের আশ্রয় গ্রহণ করা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। নীরস বক্তব্যকে সরস করে প্রকাশ করবার পক্ষে অলংকার একটি অপরিহার্য অবলম্বন। সুতরাং নারীর সৌন্দর্যের প্রসঙ্গে গহনার প্রয়োজনীয়তা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি সাহিত্যের সৌন্দর্যের প্রসঙ্গে অলঙ্কারের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য

    কিন্ত মনে রাখতে হবে, যথাসময়ে যথাস্থানে যথোচিতভাব গহনা না পরলে যেমন গহনার মাহাত্ম্য থাকে না, তেমনি সাহিত্যের মধ্যে থাসময়ে যথাস্থানে যথোচিতভাবে অলঙ্কারের সমাবেশ না হলে তাহার মাহাত্ম্যও নষ্ট হয়ে যায়।

(ক্রমশ...) 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

চরিতকথা - রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী রচিত প্রবন্ধ 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'

  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী রচিত ‘ চরিতকথা ’ থেকে চরিতকথা - রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী  ( ১৩১২ সালের ২৬শে চৈত্র...

জনপ্রিয়তার হিসেবে