সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২

বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশ

 

বনলতা সেন
জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধুসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

 

মুখ তার শ্রাবন্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর

 

হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা

সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি- দ্বীপের ভিতর,

তেমনই দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, “এতদিন কোথায় ছিলেন?”

পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

 

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মত্ন

সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;

পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন

তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;

সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী-_ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;

থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

 

কবিতা । পৌষ ১৩৪২

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মহুয়া পালা : ২ (গারো পাহাড়; বনপ্রদেশ)

  ২ গারো পাহাড়; বনপ্রদেশ   (হুমরা ও মাইন্‌কিয়া সহ দলবলের প্রবেশ) হুমরা বাইদ্যা ডাক দিয়া কয় মাইন্‌কিয়া ওরে ভাই। খেলা দেখাইবারে চ...

জনপ্রিয়তার হিসেবে